আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে (স্থানীয় সময়) ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

ঘটনাটি ঘটে রমজানের ইফতারের সময়, যখন রোগীরা রাতের খাবার শেষ করে কেউ নামাজে, কেউ বিশ্রামে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে।

বেঁচে যাওয়া এক রোগী জানান, তিনি রান্নাঘরে খাবার পরিবেশন করছিলেন, তখনই বিস্ফোরণের শব্দ শুনে দৌড়ে পালান। পরে ফিরে এসে দেখেন ডাইনিং এলাকায় থাকা অধিকাংশ মানুষ নিহত হয়েছেন—মাত্র কয়েকজন বেঁচে আছেন।

একজন চিকিৎসক বলেন, যুদ্ধবিমান কেন্দ্রটির তিনটি অংশে হামলা চালায়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আরেকজন জানান, আশপাশে সামরিক উপস্থিতি ছিল এবং গুলিবিনিময়ের পর বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়।

তালেবান সরকার দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪০০ হতে পারে, যদিও এই সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। অনেক মরদেহ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১০০টি মরদেহ ফরেনসিক বিভাগে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং স্বজনদের ভিড় জমেছে নিখোঁজদের খোঁজে। অনেকে তাদের পরিবারের সদস্যদের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে এবং হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

কাবুলের এই কেন্দ্রটি আগে একটি সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ছিল, যা পরে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী রাখা হচ্ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *