ইস্টার ছুটিকে সামনে রেখে বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া ব্রিটিশদের পাসপোর্ট ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পাসপোর্টে সাধারণ কিছু ভুল বা ক্ষতি থাকলে বিমানবন্দর থেকেই অনেক যাত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
ইস্টার হাফ-টার্মে হাজারো মানুষ বিদেশে ছুটি কাটাতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ফলে এই সময় বিমানবন্দরগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ভিড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ জেমি ফ্রেজার জানিয়েছেন, প্রতি বছরই অনেক যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয় কারণ তাদের পাসপোর্টে শারীরিক ক্ষতি থাকে। যেমন—ছেঁড়া পাতা, পানির দাগ, কভার আলাদা হয়ে যাওয়া বা এমন কোনো ক্ষতি যা ব্যক্তিগত তথ্য পড়তে সমস্যা তৈরি করে।
এ ধরনের ক্ষতি থাকলে পাসপোর্ট আর বৈধ নাও ধরা হতে পারে এবং যাত্রীকে উড়োজাহাজে উঠতে দেওয়া নাও হতে পারে। কখনও কখনও স্বাভাবিক ব্যবহারের কারণে হওয়া ক্ষতিও বিমানবন্দরের স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানার বা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, পাসপোর্টের শুধু মেয়াদ শেষের তারিখ নয়, ইস্যু করার তারিখও পরীক্ষা করা জরুরি। ব্রেক্সিটের পর নতুন নিয়ম অনুযায়ী ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পাসপোর্ট অবশ্যই ভ্রমণের তারিখের আগে ১০ বছরের মধ্যে ইস্যু করা হতে হবে।
এ ছাড়া পাসপোর্টে ভিসা বা সিল দেওয়ার জন্য অন্তত একটি ফাঁকা পাতা থাকা প্রয়োজন। যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন এবং যাদের পাসপোর্টে আগের ভ্রমণের অনেক সিল আছে, তাদের ক্ষেত্রে ফাঁকা পাতা না থাকলে সীমান্তে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পাসপোর্টে কোনো সমস্যা থাকলে সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা নবায়ন বা পরিবর্তন করা যায়। অনলাইনে নবায়ন করতে খরচ হয় ৯৪ দশমিক ৫০ পাউন্ড এবং কাগজের ফর্মে আবেদন করলে খরচ পড়ে ১০৭ পাউন্ড।
সাধারণত নতুন পাসপোর্ট পেতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে, তবে ব্যস্ত সময়ে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে যথেষ্ট সময় হাতে রেখে পাসপোর্ট ঠিক করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।