ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড ও ক্রয়ডনে মুসলিম নারীদের উদ্যোগে পরিচালিত নারী-কেন্দ্রিক মিনিক্যাব সেবা এখন নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের একটি ভরসার নাম হয়ে উঠছে। “Pink Ladies” এবং “Annisa Cars” নামের এই দুটি প্রতিষ্ঠান মূলত নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই গড়ে উঠেছে।
৩৬ বছর বয়সী আতিফা আহমেদ প্রতিদিন ভোর ৫টায় দিন শুরু করেন। নামাজ আদায় শেষে তিনি তার কাজ শুরু করেন, যেখানে তিনি নারী ও শিশুদের স্কুল, কলেজ কিংবা হাসপাতালে পৌঁছে দেন। ২০২৩ সালে অ্যাম্বারিন নওয়াজ “Pink Ladies” প্রতিষ্ঠা করেন, নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই উদ্যোগের সূচনা।
যুক্তরাজ্যে ট্যাক্সিতে যৌন হয়রানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই ধরনের নারী-নির্ভর সেবার চাহিদা বাড়ছে। ২০১৪-১৫ সালে যেখানে ২৮২টি অভিযোগ ছিল, তা তিন বছরের মধ্যে বেড়ে অন্তত ৩৩৭-এ পৌঁছায়। ব্র্যাডফোর্ড এলাকাতেই ২০২৩-২৪ সালে ট্যাক্সিচালকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই সেবাগুলো শুধু ধর্মীয় কারণে নয়, বরং নিরাপত্তার দিক বিবেচনায়ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক নারী জানান, তারা পুরুষ চালকের গাড়িতে উঠতে ভয় পান বা নিজের ঠিকানা গোপন রাখতে চান।
ক্রয়ডনভিত্তিক “Annisa Cars” ২০১৭ সালে সাদে আগবোলা প্রতিষ্ঠা করেন। তার মতে, ইসলামোফোবিয়া বৃদ্ধির কারণে বিশেষ করে দৃশ্যমানভাবে মুসলিম নারীরা এখন আরও নিরাপদ পরিবহন খুঁজছেন।
যুক্তরাজ্যে মোট ট্যাক্সিচালকদের মধ্যে মাত্র ৩% নারী, যা এই খাতটিকে এখনো নারীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং করে রেখেছে। অনেক নারী চালকই কাজের সময় হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েন। তবুও, তারা নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।