দক্ষিণ লেবাননের উপকূলীয় শহর টাইরে এখন ভয় আর অদম্য থাকার ইচ্ছার মিশ্র চিত্র। একসময় ব্যস্ত এই শহর এখন প্রায় ফাঁকা—ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ তীব্র হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ঘর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের দ্রুত জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যেতে হবে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর অবস্থানের কাছাকাছি থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
তবে বাস্তবে অনেকেই যেতে পারছেন না—কেউ দারিদ্র্যের কারণে, কেউ অসুস্থ স্বজনদের জন্য, আবার কেউ নিজের মাটি ছাড়তে নারাজ। শহরের রাস্তায় এখন বন্ধ দোকান, ধ্বংসস্তূপ আর সীমিত কিছু জরুরি ব্যবসা—যেমন পানি, রুটি ও সবজি।
স্থানীয় বাসিন্দা নেইফে আদিব বলেন, অন্যত্র ভাড়া বাসায় যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই “বাঁচা-মরার সিদ্ধান্ত নিয়েই” এখানে থাকছেন। আরেকজন বেকারি মালিক খালেদ ওসমান বলেন, যুদ্ধ নতুন নয়—তবুও তিনি শহর ছাড়বেন না, যদিও তার পরিবারকে নিরাপদে বৈরুতে পাঠিয়েছেন।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং মানবিক সংকট তীব্র হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লেবাননের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল বলছে তারা সীমিত স্থল অভিযান চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ধ্বংস করা এবং সীমান্ত এলাকায় নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করা।
এই সংঘাতের মাঝেও কিছু মানুষ শহর ছাড়তে নারাজ। ফাতিমা হাকিম বলেন, “এই দেশ আমাদের, এই শহর আমাদের—যা-ই হোক, এখানেই থাকবো।” আবার কেউ কেউ টাইরে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন, কারণ তাদের নিজ এলাকা আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
যুদ্ধ, ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও টাইরের অনেক বাসিন্দা এখনও টিকে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।