যুক্তরাজ্যের কেন্ট কাউন্টি কাউন্সিলে “অবৈধ অভিবাসন জরুরি অবস্থা” ঘোষণার প্রস্তাব তুলেছে রিফর্ম ইউকে নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। রিফর্ম দলের কাউন্সিলর ডেভিড উইম্বল ও জেরেমি ইউস্টেস উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের কারণে কেন্ট বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। এতে স্থানীয় জনসেবা ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।
প্রস্তাবে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিবাসন পরিস্থিতি কাউন্টির অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সামাজিক সংহতি এবং অপরাধ পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলছে। তাই কাউন্সিল নেতাকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ছোট নৌকায় আগমন অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানাতে, খরচ সামাল দিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাইতে এবং জরুরি সেবাগুলোর জন্য বাড়তি সহায়তা দাবি করতে বলা হয়েছে।
রিফর্ম ইউকের দাবি, অভিভাবকহীন আশ্রয়প্রার্থী শিশুদের ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেখভালের দায়িত্ব কেন্টের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রস্তাবকে “ভয় ছড়ানোর চেষ্টা” বলে সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, এ ধরনের ভাষা ও বক্তব্য অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি করে।
শরণার্থী সহায়তা সংস্থা কেয়ার৪ক্যালাইসের স্টিভ স্মিথ বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের চ্যানেল পারাপারকে “আক্রমণ” হিসেবে বর্ণনা করা অতিরঞ্জিত এবং সমস্যার সমাধানের বদলে ভয় তৈরি করে। তার মতে, এ ক্ষেত্রে ন্যায্য ও দ্রুত আশ্রয়প্রক্রিয়া এবং নিরাপদ পথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৪০ হাজারের বেশি পারাপারের চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো বা বহিষ্কার করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন কমাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা চলবে।