ইংল্যান্ডের কেন্ট এলাকায় মেনিনজাইটিস সংক্রমণে দুই তরুণের মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে।
মৃতদের একজন ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী, যিনি ফেভারশামের কুইন এলিজাবেথস গ্রামার স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। অপরজন ২১ বছর বয়সী একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, যিনি ক্যান্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
যুক্তরাজ্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে ক্যান্টারবারি এলাকায় মেনিনজাইটিস ও সেপটিসেমিয়ার লক্ষণসহ মোট ১৩টি সম্ভাব্য সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। সতর্কতা হিসেবে কিছু শিক্ষার্থীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে এবং প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী, কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক ঝিল্লির সংক্রমণ। এটি যে কারও হতে পারে, তবে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। দ্রুত চিকিৎসা না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস—দুই ধরনের সংক্রমণ থেকেই মেনিনজাইটিস হতে পারে। এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস তুলনামূলক বিরল হলেও বেশি বিপজ্জনক। এটি রক্তে সংক্রমণ বা সেপসিস তৈরি করতে পারে এবং মস্তিষ্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের গুরুতর সংক্রমণকে ইনভেসিভ মেনিনজাইটিস বলা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনিনজাইটিসের লক্ষণ হঠাৎ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—হঠাৎ জ্বর, তীব্র ও বাড়তে থাকা মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি বা ডায়রিয়া, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, আলো সহ্য করতে না পারা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব। অনেক ক্ষেত্রে ত্বকে এমন একটি র্যাশ দেখা যায় যা গ্লাস দিয়ে চাপ দিলেও মিলিয়ে যায় না।
এই রোগ মূলত নাক বা গলায় থাকা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। কাশি-হাঁচি, চুম্বন বা খাবারের বাসনপত্র ভাগাভাগি করলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। কিছু মানুষ নিজেরা অসুস্থ না হলেও ব্যাকটেরিয়া বহন করে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে বেশিরভাগ মেনিনগোকক্কাল সংক্রমণ টাইপ-বি ব্যাকটেরিয়া থেকে হয়। সর্বশেষ ২০২৪-২০২৫ সালে দেশে মোট ৩৭৮টি ইনভেসিভ মেনিনগোকক্কাল রোগের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।
মেনিনজাইটিস প্রতিরোধে কয়েকটি টিকা রয়েছে। এর মধ্যে মেনএসি ডব্লিউওয়াই টিকা কিশোরদের দেওয়া হয়, যা চার ধরনের মেনিনগোকক্কাল ব্যাকটেরিয়া থেকে সুরক্ষা দেয়। আর মেনবি টিকা সাধারণত শিশুদের দেওয়া হয়, যা টাইপ-বি সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেউ যদি মেনিনজাইটিসের লক্ষণ অনুভব করেন, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজন হলে জরুরি বিভাগে যাওয়া বা জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে এবং অসুস্থ বন্ধুদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সর্দি-জ্বর বা ফ্লুর মতো মনে হতে পারে।